মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

থানাওয়ারী উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ বা গণহত্যার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

সাতক্ষীরা সদর থানা :
২০ এপ্রিল ১৯৭১ : পাকবাহিনী প্রথম সাতক্ষীরাতে আসে । আসার সময় যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের ঝাউডাঙ্গা বাজারে তাদের কনভয় পৌঁছলে ভারতগামী এক বিশাল শরনার্থী দলের ওপর তারা গুলিবর্ষণ করে । তাতে বহু নারী-পুরুষ ও শিশু হতাহত হয়।
২১ এপ্রিল ১৯৭১ : পাকসেনারা সাতক্ষীরা টাউন হাইস্কুলে (বর্তমানে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) আশ্রিত শরণার্থীদের মধ্য থেকে অধিকাংশকে পার্শ্ববর্তী দিনেশ কর্মকারের বাড়িতে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে । একই দিনে শহরের কাটিয়া এলাকার অ্যাড. কাজী মসরুর আহমেদ ( ক্যাপ্টেন কাজী)এর দ্বিতল বাড়ির পূর্বাংশ ধ্বংস করে এবং তাকে ও তার শ্যালক শেখ মাসুদার রহমানকে গুলি করে হত্যা করে। পাকবাহিনী সুলতানপুর কুমোরপাড়ায় একই পরিবারের তিন ব্যক্তিতে হত্যা করে এবং শেখ মশির আহমেদ এর বাড়ি ধ্বংস করে এবং উক্ত বাড়ির সন্মুখে সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল কাদের ও সাতক্ষীরা কোর্টের মোহরার পুণ্য শাহকে গুলি করে হত্যা করে।
২৯ এপ্রিল ১৯৭১ : সাতক্ষীরা সীমান্তের ভোমরায় পাকবাহিনীর সঙ্গে নতুন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন সুবেদার আইয়ুব আলি। ১৬-১৭ ঘন্টাব্যাপী যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সুবেদার শামসুল হক ও দেবহাটার আবুল কাশেমসহ ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়াতে শহীদ আবুল কাশেমের নামে একটি পার্ক তৈরী করা হয়েছে।
জুন ১৯৭১ : ৭ জুন টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ সাতক্ষীরা মুক্তিযুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেবহাটা উপজেলার ইছামতি নদীর তীরে টাউন শ্রীপুর গ্রামে ক্যাপ্টেন শাহাজান মাস্টারের নেতৃত্বে ৩২ জন মুক্তিযোদ্ধা বিশ্রাম করছিলেন। তারা প্রায় সবাই যুদ্ধক্লান্ত ছিলেন। ভোর রাতে স্থানীয় একজন মোয়াজ্জেম ফজরের নামাজ শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের দেখতে পেয়ে খান সেনাদের ক্যাম্পে খবর দেয়। খান সেনারা এসে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে এবং যুদ্ধ শুরু করে। এই ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধে শামছুজ্জোহা খান কাজল, নাজমুল আবেদীন খোকন, নারায়ন চন্দ্র হোড়, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ সহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আহত হন এরশাদ হোসেন খান চৌধুরী হাবলু ও আব্দুর রশিদ, কানাইদিয়া। স.ম. বাবর আলী এ যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করেন।
নভেম্বর ১৯৭১ : নভেম্বর মাসের কোনো এক রাতে মুক্তিযোদ্ধারা সাতক্ষীরা পাওয়ার হাউস ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া কেটে সীমানার মধ্যে প্রবেশ করে এবং ইঞ্জিনরুমে দুটো বোমা পুতে রাখে । কিছুক্ষণ পরে বোমা দুটো বিষ্ফোরিত হলে পাওয়ার হাউসের ইঞ্জিন ধ্বংস হয় । নেতৃত্ব দেন শেখ আব্দুল মালেক সোনা।
কলারোয়া থানা :
৩০ এপ্রিল ১৯৭১ : মাহমুদপুর, মুরারিকাটি, বামনখালি, নাথপুর প্রভৃতি গ্রামে খান সেনারা হত্যাযঞ্জ, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মালামাল লুটতরাজ করে ।
জুলাই ১৯৭১ : ৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কলারোয়ার ভেতর দিয়ে ভারতে যাওয়ার পথে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে । ২জন ছাত্র পালাতে পারলেও ৩ জনকে তারা নির্মমভাবে গুলি করে মারে । ১৯৮৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাদের কবর পাকা করে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে ।
২৭ আগষ্ট ১৯৭১ : হিজলদিতে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের খন্ডযুদ্ধ হয়, যা হিজলদি যুদ্ধনামে খ্যাত । যুদ্ধে বেশ কয়েকজন পাকসেনা নিহত হয় ।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ : কাকডাঙ্গায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয় । দু’দিনব্যাপী কাকডাঙ্গা যুদ্ধে উভয়পক্ষ ভারী কামানসহ আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহার করে । যুদ্ধে ১৭ জন পাকসেনা নিহত হয় । তবে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও শহীদ হন ।
২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ : বালিয়াডাঙ্গায় পুনরায় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হয় । যুদ্ধে বহু পাকসেনা নিহত হলেও ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীন হন এবং ৩ জন ধরা পড়েন ।
তালা থানা :
২৫ এপ্রিল ১৯৭১ : পাটকেলঘাটা বাজারে একদল শরণার্থীসহ বহু মানুষকে একসঙ্গে পাকসেনারা হত্যা করে। ঘটনাটি পাটকেলঘাটা গণহত্যা নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে।
১৬ আগষ্ট ১৯৭১ : খানসেনাদের খাদ্য বোঝাই একটি লঞ্চ কপোতাক্ষনদ দিয়ে যাওয়ার সময় জালালপুর গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা সেটি আক্রমণ করে । তারই প্রতিশোধ নিতে খানসেনারা জালালপুর গ্রামে ঢুকে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং বহু মানুষকে হত্যা করে ।
২০ নভেম্বর ১৯৭১ : মাগুরায়, তালা মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকসেনা ও রাজাকারদের একটি খন্ডযুদ্ধ হয় । খবর পেয়ে আরও পাকসেনা যেয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং মুক্তযোদ্ধারাও প্রস্তুতি নেয় । এ যুদ্ধে বেশ কয়েকজন মুক্তিসেনা শহীদ হন এবং কয়েকজন নিরীহ গ্রামবাসী পাকসেনাদের গুলিতে মারা যায় ।
আশাশুনি থানা :
১৫ আগষ্ট ১৯৭১ : ১৪ আগষ্ট ১৯৭১ তারিখে নৌ-মুক্তিবাহিনীর একটি দল মংলা বন্দরে অবস্থানরত পাকিস্তানি অস্ত্র বোঝাই একটি জাহাজ মাইন দ্বারা ক্ষতি করে । ১৫ আগষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা নৌকাযোগে ভারত ফেরবার পথে বুধহাটায় রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে সাতক্ষীরা শহরের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম ও আফতাব উদ্দীন (বাগআছড়া) শহীদ হন এবং কয়েকজন ধরা পড়েন। শহীদ সিরাজুল ইসলামের নামে সাতক্ষীরা শহরের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।
১৬ আগষ্ট ১৯৭১ : কেয়ারগাঁতি গ্রামে খোলপেটুয়া নদীর তীরে মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকসেনা ও রাজাকারদের কয়েক ঘন্টা সম্মুখযুদ্ধ হয় । যুদ্ধে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ।
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ : গোয়ালডাঙ্গা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাজাকারদের সম্মুখ যুদ্ধ হয় । বীর মুক্তিযোদ্ধা স.ম বাবর আলীর নেতৃত্বে পরিচালিত গোয়ালডাঙ্গা যুদ্ধে বেশ কয়েকজন রাজাকার অস্ত্রসহ ধরা পড়ে । বাকিরা পলিয়ে যায় । মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন শহীদ হন।
৩০ অক্টোবর ১৯৭১ : মুক্তিযোদ্ধারা চাঁপড়া রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে । যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেনেড আক্রমণে কয়েকজন রাজাকার হতাহত হয় ।
দেবহাটা থানা :
২২ এপ্রিল ১৯৭১ : খানসেনারা প্রথমবারের মতো সাতক্ষীরা থেকে কালিগঞ্জ যায় । যাওয়ার পথে পারুলিয়অতে অজিয়ার রহমান নামক এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে । ফেরার পথে বাজারের বেশ কিছু দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।
১৫ আগষ্ট ১৯৭১ : সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের অন্যতম যোগসূত্র পারুলিয়া সাপমারা খালের উপর নির্মিত পুরনো কাঠের পুলটি ধ্বংসের জন্য ৯ সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার লে. মাহফুজ আলম বেগ এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা একটি সফল অভিযান চালায় । অভিযানে পুলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।
অক্টোবর ১৯৭১ : সাব-সেক্টর কমান্ডার মুজাহিদ ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শাঁকরা-কোমরপুর পাকবাহিনীর ঘাঁটি আক্রমণ করে । প্রচন্ড যুদ্ধে ৫-৬ জন খানসেনা নিহত হয় । কুলিয়া গ্রামের গোলজার হোসেন যুদ্ধে শহীদ হন । ঘটনাটি ভাতশালা যুদ্ধ নামে খ্যাত ।
২১ নভেম্বর ১৯৭১ : কুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা, লে. মাহফুজ আলম বেগ ও মুজাহিদ ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাস্টারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করে । যুদ্ধে ৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীন হন এবং বহু পাকসেনা নিহত হয় এবং ঘাঁটি ফেলে পালায় ।
কালিগঞ্জ থানা :
১৩ জুন ১৯৭১ : সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন নূরুল হুদার নেতৃত্বে ৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধা বসন্তপুর পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমণ করলে যুদ্ধ হয় । যুদ্ধে ২০ জন পাকসেনা মারা পড়ে এবং বহু অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের করায়ত্ত হয় ।
জুলাই ১৯৭১ : খানজিয়া বিওপি ক্যাম্পের দখল নিতে পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড যুদ্ধ হয় । যুদ্ধে পাকসেনারা পরাজিত হয়ে পালায় এবং ৪ জন আহত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়ে।
২৮ জুলাই ১৯৭১: উকশা সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন পাকসেনা প্রাণ হারায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁদে পড়ে খানসেনারা জীবন দেয় বলে ঘটনাটি ‘উকশার মরণ ফাঁদ’ নামে পরিচিতি।

কালিগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধকালিন মহরা
৪ সেপটেম্বর ১৯৭১: পিরোজপুর গ্রামে গড়ে ওঠা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি আক্রমণ করতে আসা পাকবাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে বহু পাকসেনা ও রাজাকার মারা পড়ে।
২৬ সেপটেম্বর ১৯৭১: সাব-সেক্টর কমান্ডার লে. মাহফুজ আলম বেগ ও কমান্ডার শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা কালিগঞ্জ রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে তাদেরকে আত্মসর্মণে বাধ্য করে। একই দিনে কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের কালিগঞ্জ শাখা (বর্তমান সোনালী ব্যাংক) অপারেশন করে ব্যাংকের বেশ কয়েকটি বন্দুক হস্তগত করে।
২০ নভেম্বর ১৯৭১: কালিগঞ্জ ওয়াপদা কলোনিতে অবস্থানরত পাকবাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে পাকবাহিনী পিছু হটে। তবে বেশ কিছু পাকসেনা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বুন্দি হয়। দিনটি কালিগঞ্জ বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।
শ্যামনগর থানা :
গাবুর নৌ-যুদ্ধ :
৬ মে ১৯৭১: দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকে শক্তিশালী করতে সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিলসহ ৯ সেক্টরের নেতৃস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণের একটি দল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও অস্ত্রভর্তি দুটো লঞ্চ নিয়ে যাওয়ার পথে গাবুরায় পাক নৌবাহিনীর গানবোটের মুখে পড়ে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যায় এবং তাদের লঞ্চে পাকসেনাদের গোলার আঘাতে আগুন ধরে যায়। তারা নদী তীরে নেমে পড়লে ‘পিস কমিটি’র লোকের হাতে তারা ধরা পড়েন। মেজর এম.এ জলিলসহ কেউ কেউ কৌশলে পালাতে সক্ষম হলেও ১১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
১৯ আগষ্ট ১৯৭১ (২ ভাদ্র ১৩৭৮): গোপালপুরে পাকসেনা ও রাজাকারদের সাথে মুক্তিসেনাদের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। ১৮ আগষ্ট দিবাগত রাতে পাকবাহিনীর একটি কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অতর্কিতে আক্রমণ করলে ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। গোপালপুরে তাদের কবরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
৯ সেপটেম্বর ১৯৭১ (২৩ ভাদ্র ১৩৭৮): ৩ সেপটেম্বর কয়েকজন খানসেনা হরিনগর স্কুলে যায়। খবর পেয়ে এলাকার শিকারি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নবাব্দি ফকির তার দলবল নিয়ে পাক গানবোটের ওপর আক্রমণ করে। তাতে গানবোটের কিছুটা ক্ষতি হয় এবং পাকসেনারা ফিলে যেতে বাধ্য হয়। অতঃপর ৯ সেপটেম্বর পাকবাহিনী ও রাজাকাররা প্রতিশোধ নিতে হরিনগর বাজার ঘেরাও করে ২৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে এবং বাজারে অগ্নিসংযোগ করে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি হরিনগর গণহত্যা দিবস হিসেবে ইতিহাসে লিখিত রয়েছে।
১২ অক্টোবর ১৯৭১: ভেটখালির রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে কিছুক্ষণ গুলি বিনিময়ের পর রাজাকাররা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে মুক্তিযোদ্ধারা বিস্ফোরক দিয়ে ক্যাম্পটি ধ্বংস করে দেয়।
এমনি করে খন্ড খন্ড সশস্ত্র যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে ৭ ডিসেম্বর পাকসেনারা সাতক্ষীরা ছেড়ে চলে যায়। মুক্ত হয় সাতক্ষীরা । দীর্ঘ নয় মাস ধরে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এদেশের স্বাধীনতা, এদেশের মুক্তি।প্রতি বছর ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়।
দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলার বহু নিরীহ মানুষ পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর হাতে নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে গণকবর দেয়া হয়। এসব বধ্যভূমিগুলো হচ্ছে মাহমুদপুর (সাতক্ষীরা সদর), সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের পিছনে, বাঁকাল ব্রিজের পূর্ব পার্শ্বে, ঝাউডাঙ্গা বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে গোবিন্দকাটি মাঠে, পার কুমিরা, জালালপুর, হরিনগর ও বিনেরপোতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।