মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

খেলাধুলা ও বিনোদন

সাতক্ষীরা ক্রীড়াঙ্গনেরঐতিহ্য

 

 

সাতক্ষীরার সবুজ প্রান্তরে এক সময় ছিলো চিত্তাকর্ষক খেলাধুলার আসর । সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলায় সুদূর অতীতের খেলাধুলার অনেক কাহিনী থাকলেও আজ তা বিলুপ্ত হতে চলেছে । সাতক্ষীরার খেলাধুলার ইতিহাস ঐতিহ্যকে কেউ মনে রাখেনি । কোন ঐতিহাসিক বা লেখক সাতক্ষীরা জেলার খেলাধুলার ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে রাখেনি । তার ফলে হারিয়ে গেছে প্রাচীন খেলাধুলার অনেক ঘটনা কাহিনী ও ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাস।

 

 

 

সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার অনেক স্থানেই খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন সময়ে অনেক সংগঠন গড়ে ওঠে।                                   

 

 

মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: আ.ফ.ম. রুহুল হক কর্তৃক জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ,২০০৯ উদ্বোধন

সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে অনেক মাঠ ছিলো । এছাড়া উন্মুক্ত প্রশস্ত পতিত জায়গা ঘিরে গড়ে ওঠে খেলাধুলার কর্মকান্ড । এ সমস্তমাঠের অধিকাংশই ত..কালীন হিন্দু জমিদার বিত্তশালী ব্যক্তিদের দানেই গড়ে ওঠে । যেমন বর্তমানে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামের এই স্থানটি ৫০ দশকে কনক চন্দ্র পাল পার্ক কমিটিকে দান করেছিলেন খেলাধুলার আয়োজন ও উ.সাহ প্রদানের জন্য । সেখান থেকে ১৯৭২ সালে কনক বাবুর নিকট থেকে গ্রহণ করা পার্ক কমিটির মাঠ ও পার্শ্ববর্তী নূর আহম্মদ খাঁ, নুরুল ইসলাম খাঁও আশরাফ উদ্দিন খাঁ সাহেবের নিকট থেকে বাকী জমি নিয়ে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামহিসেবে গড়ে ওঠে ।

 

 

মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: আ.ফ.ম. রুহুল হক কর্তৃক জেলা প্রশাসক'২০০৯ গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন দল সাতক্ষীরা পৌরসভার হতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন

আজও সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামকে অনেকেই কনক পার্ক হিসেবে চেনেন । এখানে বহু পূর্ব থেকেই খেলা হতো । কিন্তু দু:খের বিষয় সেই নামকরণের কোন কিছুই রাখা হয়নি ।

শহর ও গ্রামে বিদেশী খেলা ফুটবল ও হকি, হা-ডু-ডু/কাবাডি, দাঁড়িয়াবাধা, লাঠিখেলা, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, কুস্তি ও জিমন্যাস্টিক খেলা গোড়া থেকেই প্রচলন ছিল । স্বাধীনতা উত্তরকালে ক্রিকেট ফুটবল টেনিস ব্যাডমিন্টন খেলায় অনেক প্রসার ঘটে । অপরদিকে নৌকা বাইচ ও সাঁতারজনপ্রিয় ছিল ।বর্তমানে হ্যান্ডবল খেলা ব্যাপ্তি লাভ করেছে । এছাড়া ও বুড়ি চু খেলার সংস্করণ খোঁ খোঁ খেলার প্রচলন রয়েছে । সাতক্ষীরা জেলায় প্রাচীন কালেগ্রামীণ জনপদে আনন্দদায়ক খেলা ছিলো পলাপলি, বুড়ির চু বা চি বুড়ি, পঁাচগুড়ি , গোল্লাছুট, কানামাছি ভো ভো, বাঘ বন্দি, বাগোল জুটি, রাজা রাজা খেলা বা কুমির কুমির খেলা, পুতুল খেলা, ডাংগুলি, ঘোড় দৌড় প্রভৃতি। হা-ডু-ডু, গাদন খেলা বহুকাল থেকেই এই জেলায় প্রচলিত ।

 

 

মাননীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব এম আবদুল আজিজ এনডিসিকর্তৃকখুলনা বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ'২০১০ এর শুভ উদ্বোধন

খেলাধুলার মধ্যে শহরে ও গ্রামে ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয়

বৃটিশ আমল থেকেই মুনজিতপুর সবজি বাগানের মাঠে খেলাধুলা হতো । পিএন হাইস্কুল, সুলতানপুর, পালিত বাগান, কনক পার্ক, টাউন স্কুল, এরিয়ান্স ক্লাবের মাঠ অতি পুরাতন । পদ্মশাখরা, তূজুলপুর, মাধবকাটি,রসুলপুর, আগরদাঁড়ী, কেড়াগাছি, রথখোলার মাঠ, পাটকেলঘাটা, কুমিরা, সখিপুর, লাবসা, বাঁশদহা , মুকুন্দপুর, দরগাহপুর, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, কলারোয়ার মাঠ উল্লেখযোগ্য । দেশ বিভাগের পর পারুলিয়া দেবীশহর, ভাদড়া, কোমরপুর, কাঠনিয়া প্রমুখ।

সাতক্ষীরার খেলোয়াড় ও ক্রীড়ামোদীদের নিয়ে যেসব ক্লাব গঠিত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে পিকে ইউনিয়ন ক্লাব, এরিয়ান্স ক্লাব, টাউন ক্লাব, রসুলপুর ক্রীড়া সংস্থা, সপ্তগ্রাম ক্লাব, পার্ক একাদশ । এছাড়া অনির্বাণ ক্রীড়া সংস্থা, সুলতানপুর ক্লাব, টাউন ক্লাব, সপ্তগ্রাম ক্লাব, পঞ্চগ্রাম যুব সমিতি, কালিগঞ্জ সদর ক্লাব, ঝাউডাঙ্গাজাগরণী ক্লাব, পারুলিয়া যুব সমিতি, ফ্রেন্ডস স্পোটিং ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব কলারোয়া, গণমুখী সংঘ, ট্রেনিং ক্লাব, লাবসা পল্লীমঙ্গল সমিতি, রসূলপুর যুব সমিতি, মুসলিম স্পোর্টিং ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলস্, চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘ, থানাঘাটা সোনালী সংঘ, বাঁকালপ্রভাতী সংঘ ও কুখরালী আদর্শ যুব সংঘ।

 

সাতক্ষীরা টেনিস মাঠ

মূলত ফুটবলই এই জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। দেশবিভাগের পূর্বে সাতক্ষীরা যেসব কৃতি খেলোয়াড় ছিলেনতারা হলেন শৈলেন সরকার (দেবহাটা)। তিনি ইস্ট বেঙ্গল দলের অধিনায়ক এবংআই.এফ.এ'র সভাপতি ছিলেন । বুধহাটার বিক্রমাদিত্য দেবনাথ মোহনবাগান দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন । তিনি ৬০ দশকে ভারতীয় জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ছিলেন । ঈশ্বরীপুরের তপন কুমার চট্টোপাধ্যায় ইস্ট বেঙ্গল, এরিয়ান্স ও ইন্টার্ন রেলওয়ের হয়ে কলিকাতায় খেলাকরে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন । ভাড়াশিমলার আব্দুল হামিদ খান, লু..ফর রহমান কলকাতা মোহামেডানের খেলোয়াড় ছিলেন । পলাশপোল চৌধুরীপাড়ার শওকাত খান চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান দলের ফরোয়ার্ড ছিলেন । আর সাতক্ষীরা ফুটবলের কিংবদন্তী হিসেবে তার স্থান সর্বাগ্রে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি ইপিআর দলের পক্ষে খেলতেন। ১৯৫৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান দলের পক্ষে বেলুচিস্তানের বিপক্ষে খেলেন । ১৯৫৪-৫৫ সালে আইজি একাদশের পক্ষে খেলে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার ব্যক্তিগত পুরস্কার পান । ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্তএকাধিকবার মহাকুমা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন । আবদুস সাত্তার খান চৌধুরী কলাকাতা ক্লাবে, বিরু মজিদ দেবনাথ ষাটের দশকে কলকাতা ইস্ট বেঙ্গল ও ভারতের জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ছিলেন। ঈশ্বরীপুরের তপন চট্টোপাধ্যায় এরিয়ান্স ও কলকাতা ইস্টার্ন ক্লাবে খেলতেন । দেশ বিভাগের পূর্বে ফুটবলের আরও যারা খেলোয়াড় ছিলেন তরা হলেন তপন কুমার, অধীন কুমার(দলুয়া), আতাউর রহমান, এড. শেখ সায়িদার রহমান, আছেদার রহমান, দরগাহপুরের মধু, কালু, ময়না, ছোট, অমল কান্তি, দেবেন্দ্রনাথ, লু..ফর রহমান , হাবিবুর রহমান, সামছুর রহমান, আতিয়ার রহমান, অজিয়ার রহমান, ফজলে হক, আহমদ খান, পবন ঘোষ, নিমাই সরকার, আবদুল হান্নান মল্লিক, আনন্দ ঘোষ।দেশ বিভাগের পর শওকাত খান চৌধুরী, শেখ মতিউর রহমান, গদাধর চক্রবর্তী(মল্লিকপাড়া), মতিয়ার রহমান(গুনাকরকাটি), আজমখান , আমানউল্লাহ, আলফাজ চৌধুরী, লিয়াকত হোসেন, মতিয়ার রহমান, ইসমাইল খান, আতিয়ার রহমান, অনাথ বন্ধু বসু ।

এ সময় উল্লেখযোগ্য গোলরক্ষক হলেন- মাহবুবর রহমান(লাবসা), শেখ মফজল আহমেদ পটু(লাবসা), আবদুল মান্নান খান চৌধুরী এবং স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে হাসনে জাহিদ জজ, সহিদুল ইসলাম খান চৌধুরী, আদোল, হাবিবুর রহমান(ভাড়ুখালী), ফিরোজ হোসেন(শ্যামনগর), আবদুল মোক্তাদের খান চৌধুরী নান্টু, জাকির খান, ছাদরিল উলা মিনি । এ সময়কার উল্লেখযোগ্য খোলায়াড়রা হলেন- আফসার মাস্টার, আবদুল মজিদ, আলাউদ্দিন,এড. আলাউদ্দিন, এড. নাসির, সাইফুল্লাহ খান, অলিউল ইসলাম খান, খালেকুজ্জামান খান, বদরুল ইসলাম, সামছুজ্জোহা দুলু, বালু খান, নাসির খান, জাফরউল্লাহ খান, আহমদ আলী সরদার, বেড়ে মান্নান, আব্দুল গণি, সহিদুল, মান্নান,

 

 

মনোজ্ঞ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

পিয়ারা, শান্তি, দ্বীন মোহাম্মদ, চন্দন, আকরম, সিরাজুল ইসলাম খান, সুজা খান চৌধুরী, মন্টু, জাবের, শফিউল ইসলাম খান, চন্দন, আশিকুর, কিসলু

৮০ দশকের উল্লেখযোগ্যরা হলেন- ইকবাল কবির খান বাপী, জাহিদ, সবুজ, হুমায়ুন ও কামাল। স্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবল দলের হয়ে ভারতে বিভিন্ন প্রদর্শনী খেলায় অংশগ্রহণ করে আলহাজ্ব আব্দুল খালেক সুনাম অর্জন করেন ।

এ্যাথলেটিক্স :

 

খেলাধুলার একটি বিশেষ দিক দখল করে আছে এ্যাথলেটিক্স । প্রতিবছর একবার শীত মৌসুমে এই প্রতিযোগিতা হতো । দেশ স্বাধীনের পর থেকে ত..কালীন মহাকুমা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে বিপুল উ..সাহেরসাথে এই প্রতিযোগিতা হতো । স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতো । এই প্রতিযোগিতায় পিকে ইউনিয়ন, টাউন ক্লাব, ইউনাইটেড ক্লাব ও রসুলপুর দলের প্রতিযোগিতা চরম উত্তেজনাপূর্ণ ছিলো । স্বাধীনতা লাভের পর অলিউর রহমান খান, সাইফুল্লাহ খান, মোক্তার খান, আবদুল ওহাব সাজদ্দি, শফিউল খান, রোজোয়ান খান,লু..ফর করিম, আবদুস সবুর, হাকিম আজহারুল ইসলাম, তোতা, আশরাফুল, বদরুল, সিরাজুল, লিয়াকত, আসলাম, লালু খান, সুজা খান চোধুরী, আকরম প্রমুখ ।

 

 

ফুটবল খেলারত অবস্থা

মহিলাদের মধ্যে সেতারা জামান, জেসমিন আক্তার চন্দন, সালমা খান, হোসনে আরা বেগম, সুফিয়া খান চৌধুরী, পুরবী, কাজী দিলারা জামান, আওলিয়া, সেলিনা খান চৌধুরী উল্লেযোগ্য । কাজী সেতারা জামান ৭৬-৭৯ সাল পর্যন্ত নিক্ষেপ বিভাগের শটপুটে জাতীয় চ্যাম্পিয়ান ছিলেন ।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি :

 

দেশ বিভাগে ও স্বাধীনতা লাভের পর সাতক্ষীরা ক্রীড়াঙ্গন ছিল মুখরিত ।১৯৭২ সালে সাতক্ষীরা মহাকুমা ফুটবল দল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট ফুটবল মাঠে বসিরহাট দলের সাথে প্রদর্শনী খেলায় অংশ নেয় । একইভাবে তারাও আমাদের এখানে খেলতে আসে । সূচিত হয় মৈত্রির বন্ধন । এমনি লীগ খেলায় ভারতীয় খেলোয়াড়রা খেলতে এসেছে । জাতীয় পর্যায়ের বহু ফুটবলক্রিকেট তারকারা এখানে পদার্পণ ঘটেছে । খেলাধুলার এই বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে ওঠেছে বহু ক্লাব ।যা সমাজের অন্যান্য কল্যাণমুলক কাজে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে । সাতক্ষীরার খেলাধুলার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিলো । কিন্তুদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে জেলা শহরের অনেক প্রত্যাশা পূরণ হয়নি ।

 

 

খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হচ্ছেন মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিব জনাব এম আবদুল আজিজ এনডিসি

তবে পূর্ব পাকিস্তান দলেরখেলোয়াড় শওকাত হোসেন খান চৌধুরীসহ আফসার মাস্টার, হাজি খালেক, বদরুল ইসলাম খানএ্যাথলেটিক্স-এ কাজীসেতারা জামান, ফিফা রেফারী তৈয়ব হাসান, জাতীয় মহিলা ক্যারাম চ্যাম্পিয়ান ও রানার্সআপ শিল্পী ও প্রীটি এবংজাতীয় খোঁ খোঁদলের খেলোয়ার রাজা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ করেছে । বর্তমানে সাতক্ষীরায় ফিফা রেফারী জনাব তৈয়ব হাসান, ২ জন প্রথম শ্রেণীর রেফারী, ২৬ জন দ্বিতীয় শ্রেণীরসহ ৪৫জন ফুটবল রেফারী আছেন । এছাড়া ৩জন প্রশিক্ষক, ৮জন আম্পায়ার, ৫ জন ভলিবল রেফারী ও ৬ জন হ্যান্ডবল রেফারী আছেন । এছাড়া ৩ জন ফুটবল কোচ, ৫ জন

ক্রিকেট কোচ, ২জন কাবাডি কোচ আছেন । ফুটবল কোচের মধ্যে বর্তমান ডিএফএ -এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান জেলা দলের কোচ হিসেবে ২০ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করেন । তিনি জার্মান, বৃটিশ, যুগোশ্লাভ কোচদের অধীনে এবং ফিফা যুব একাডেমী থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ১৯৮৯ সনে বিদেশে ফুটবল কোচের স্কলারশীপ পান । ১৯৯৮ সালে ২৩তম জাতীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরাচ্যাম্পিয়ান হয় । প্রতি বছর জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও সার্বিকভাবে খেলাধুলার উন্নতি হয়নি ।বর্তমানে ডিএফএ'র সাধারণ সম্পাদক ইমাদুল হক খান ফুটবলে বেশ কয়েকটি দেশ সফর করে সাফল্য অর্জন করেছেন । তিনি বিকেএসপি থেকে আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধা দলে পরে ব্রাদার্স ইউনিয়নের অধিনায়ক ছিলেন । এছাড়াও সাতক্ষীরার সন্তান বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক শামীম আল মামুন বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উপ-পরিচালক (ক্রীড়া)হিসেবে কর্মরত আছেন । মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেসাতক্ষীরার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দোহা কাজল পিকে ইউনিয়ন ক্লাবের দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন ।

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল দল শেরে বাংলা জাতীয় ফুটবলে ৯৪-৯৫ সালে আঞ্চলিক রানার্সআপ, ৯৬ সালে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে ৫ম স্থান আবিস্কার করে । সাতক্ষীলা ২০০৮ সালে আন্ত:জেলা ভলিবল চ্যাম্পিয়ান এবং ২০০৯ সালে ক্লাব কাপ ভলিবলে কুখরালী ভলিবল কোচিং ক্লাব জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয় । জাতীয় স্কূল ও মাদ্রাসা ফুটবল কালিগঞ্জ তারকনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে । ২০০৯ সালে অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয়প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশ রানার্সআপ, জাতীয় মহিলা ফুটবল বাংলাদেশে ৪র্থ স্থান, ডানোন কাপ জাতীয় ফুটবল আঞ্চলিক রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে ।

সাতক্ষীরা টেনিস মাঠ

বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা এ নির্দেশনায় অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ৬৪ জেলায় নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন গঠিত হয়েছে। তাদের ভোটে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এ কার্য্যনির্বাহী কমিটি গঠিতহয়েছে । কয়েক মাস পূর্বে গঠিত সাতক্ষীরা জেলা ফূটবল টূর্ণামেন্ট, অনুর্ধ্ব-১৪ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জাতীয় রানার্সআপ, মহিলাদের দল দঠন ও জাতীয় ফুটবলে অংশগ্রহণ, সাতক্ষীরায় ডানোন কাপ জাতীয় অ-১২ ফুটবলের আঞ্চলিক খেলা আয়োজন এবং সর্বশেষ জেলা প্রশাসক গোল্পকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য আয়োজন সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছেন ।

 

 

 

সাতক্ষীরা ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্য

 

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত ২০০৮-০৯ এ সাতক্ষীরা জেলা মহিলা ফুটবল দল বুড়িগংগা অঞ্চলের আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে। বর্তামানে সাতক্ষীরার ৫জন মহিলা ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণে আছে। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা মহিলা ফুটবল দল বাংলাদেশে বর্তমানে ৩য় স্থানে অবস্থান করছে।

 

নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার দৃশ্য

জাতীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় সাতক্ষীরা জেলা ১৯৯৮ সালে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

 

 

ক্যারাম প্রতিয়োগিতায় সাতক্ষীরা থেকে মহিলা দল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ান হয় ২০১০ সালে।

মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিব জনাব এম আবদুল আজিজ এনডিসি,উক্ত টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন।জনাব মো: ইউনুসুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা বিভাগ, খুলনা, জনাব মো: আবদুস সামাদ, জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা, শাহাজালাল ইসলামী ব্যাংক এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান এবং এটিএন বাংলার খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি জনাব এসএম হাবিব উপস্থিত ছিলেন। উদ্ভোধনী খেলায় যশোর জেলা ফুটবল দল সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল দলকে ট্রাইব্রেকারে ৪-১ গোলে পরাজিত করে। এছাড়া খুলনা বিভাগের নড়াইল, বাগেরহাট ও খুলনা জেলা খেলায় অংশগ্রহণ করছে।

 

 

 

বক্তৃতার অবস্থায় মাননীয় মন্ত্রীপরিষদ সচিব জনাব এম আবদুল আজিজ এনডিসিএবংজনাব মো: ইউনুসুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার,খুলনা

টেনিস :

 

দেশ বিভাগের পর তৎকালীন সাতক্ষীরা মহকুমার ডাকবাংলো চত্বরে লন টেনিস খেলার সূচনা ঘটে। মূলত: সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এ খেলাটি প্রচলন ছিল। স্থানীয় ব্যাক্তিদের মধ্যে এ্যাডভোকেট আব্দুল গফফার , এ্যাডভোকেট শামসুল হক(১) , ছহিল উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে এখানে খেলায় অংশগুহন করতেন।

 

স্বাধীনাতা উত্তরকারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে (ওয়াপদা) ভিতর একটি উন্মুক্ত চত্বর লন টেনিসের একটি কোর্ট নির্মিত হয়। শুরু হয় এখানে লন টিনিস খেলার চর্চা ও অনুশীলন। সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় খেলোয়াড়দের যৌথ মহড়া চলতে থাকে।

 

 

সাতক্ষীরা টেনিস মাঠ

 

আলোচ্য সময়ে স্থানীয় লন টিনিস খেলোয়াড়দের মধ্যে হাবিবুর রহমান মনু বিশেষভাবে খ্যাতি লাভ করেন।

অত:পর ১৯৯৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলাক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের উদ্যোগে সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব সায়ফুল আলম সাহেব স্থানীয় স্টেডিয়ামের বহিরাংগনের পূর্বপার্শ্বে লন টেনিস কোর্ট ও ক্লাব উদ্বোধন করেন। সেই থেকে এখানে সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় থেলোয়াড়দের চলছে নিয়ত লন টেনিস -এর চর্চা ও অনুশীলন।

 

 

 

সাতক্ষীরা টেনিস মাঠ